রান্নাঘর সুন্দরভাবে সাজানোর উপকারী কিছু টিপস

রান্নাঘর সুন্দরভাবে সাজানোর উপকারী কিছু টিপস

রান্নাঘর সাজানো অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। রান্নাঘরের সারঞ্জামগুলো সাজিয়ে রাখলে কাজ করতে সহজ হয় তথা নিরাপদে কাজ করা যায়। তাছাড়া বিভিন্ন খাবার দাবার সংরক্ষণ করার জন্যও রান্নাঘর সুন্দরভাবে সাজানো এবং ছোট খাট কিছু কৌশল জেনে রাখা আবশ্যক। নিচে আপনাদের রান্নাঘর সাজানো এবং আরও কিছু উপকারী কৌশল সম্পর্কে আলোচনা করা হল

রান্নাঘর সুন্দরভাবে সাজানো
১। রান্নার জায়গার ঠিক পিছন দিকে ছুরি এবং কাটাগুলো ঝুলিয়ে রাখলে ভালো হয় তাতে তাড়াতাড়ি কাজ করতে গিয়ে হাত কেটে যাওয়ার সম্ভাবনা কম থাকে।
২। কাপ, প্লেট এবং মগগুলো কাবার্ডের উপর দেওয়ালে ঝুলিয়ে দিলে জায়গা অনেকটা কম লাগে।
৩। রান্নার উপকরণগুলো এমনভাবে সাজাতে হবে যাতে কোন জিনিস কতটা আছে কোথায় আছে টা আপনার চোখে পরে। তা না হলে কোন জিনিস কোথায় আছে তা পাওয়া যাবে না ফলে ব্যবহার করাও হবে না।
রান্নাঘরের দেয়াল আলমারিতে যা যা রাখবেনঃ
  • সাদা তেল
  • সরষের তেল অল্প বিশেষ কিছু রান্নার জন্য
  • কারী পাউডার, জিরে, এলাচ, দারুচিনি, শুকনো মরিচ এয়ার টাইট কৌটায় রাখলে দুই মাস পর্যন্ত ভালো থাকে।
  • গোটা গোলমরিচ ও গুড়ো মরিচ
  • গুড়ো লবণ এবং বিট লবণ
  • সয়া সস, টমেটো সস এবং চিলি সস
  • মাস্টারড গুড়ো
  • সুপ কিউভ
  • সরসে, কাসুন্দি
  • টোস্ট বিস্কুটের গুড়ো
  • বিভিন্ন খাবারের রং
  • শুকনো ইষ্ট, বেকিং পাউডার
  • কর্ণ ফ্লাওয়ার
  • সুজি, চিরে, মুড়ি এবং চিনেবাদাম
  • আইসিং সুগার
ফ্রিজে যা যা রাখবেনঃ
  • দুধ ও মাখন
  • ডিম (অমলেট বানানোর জন্য)
  • টক ক্রিম (সস তৈরির জন্য)
  • দই (রায়তা, ফ্রুট সালাত তৈরি করার জন্য)
  • বেকন বা শুকানো মাংস
  • মেওনিজ
  • আমলকী, জলপাই, কাপ্সিকাম, সেলারি পাতা কুচিয়ে প্লাস্টিকের প্যাকেটে ভরে রাখতে পারেন। ঝটপট সালাদ তৈরিতে কাজে লাগবে
  • ধনেপাতা বা পুদিনা বাটা চাটনি
  • ফ্রিজারে যা রাখবেনঃ
  • মটরশুঁটি, বিন, মিশ্র সবজির টুকরো
  • আইসস্ক্রিম
  • চেরি, স্ত্রবেরি বা অন্য কোন ছোট ফল প্যাকেটে ভরে
  • ফলের রস
  • মাছ ও মাংস
কিচেন ক্যাবিনেট সুশৃঙ্খলভাবে সাজিয়ে রাখার সহজ টিপস
কিচেন ক্যাবিনেট সুশৃঙ্খলভাবে সাজিয়ে রাখার সহজ টিপস
হেঁসেল কিংবা রান্নাঘর যা-ই বলুন না কেন, গৃহস্থালির অন্যতম অনুষঙ্গ এটি। বাড়ির সাজগোজ নিয়ে বাড়াবাড়ি হতেই পারে! কিন্তু বসার আর শোয়ার ঘরের পাশাপাশি হেঁসেলের সৌন্দর্যে কিচেন ক্যাবিনেটের জনপ্রিয়তা বাড়ছে দিন দিন। রান্নাঘরকে একই সঙ্গে সুন্দর ও পরিপাটি করে তুলতে কিচেন ক্যাবিনেটকে গুরুত্ব দিচ্ছেন অনেকেই। আবার রান্নার সময়টুকু যাতে স্বাচ্ছন্দ্যে কাজ করা যায়, সেজন্য মনোরম রান্নাঘরের তুলনা নেই। রান্নাঘর বদলে দিতে কিচেন ক্যাবিনেট ব্যবহার করতে পারেন। নানা ডিজাইনের নান্দনিক সব কিচেন ক্যাবিনেট সৌন্দর্য বাড়িয়ে দেবে কয়েক গুণ। বৈচিত্র্য আনতে গাঢ় রঙের কিচেন ক্যাবিনেট ব্যবহার করুন। নিতে পারেন অফহোয়াইট, লাল, কমলা বা হালকা সবুজ রঙের নানা আকৃতির কিচেন ক্যাবিনেট। আবার ক্যাবিনেটে স্পটলাইট দিয়ে আলাদা করে আলোকিত করতে পারেন। ক্যাবিনেটের সঙ্গে আংটা দিয়ে কিছু রঙিন গ্লাস, চামচ, ছুরি ঝুলিয়ে দিতে পারেন। তবে কেনার সময় পানিরোধী ও সহজেই পরিষ্কার করা যায়, এমন ক্যাবিনেট কিনতে পারেন। রান্নার বিভিন্ন সরঞ্জাম সাজিয়ে রাখার জন্য ইচ্ছামতো সংযোজন করতে পারেন ম্যাজিক কর্নার, পুল আউট ড্রয়ার, কাটলারি ট্রে, ডিশ ট্রে ইত্যাদি।
কোথায় পাবেন: নাজু মার্ট এ মিলবে পছন্দের সব কিচেন ক্যাবিনেট। উত্তরা, বাড্ডা, শেওড়াপাড়ায় অবস্থিত হাতিলের শাখাগুলোয় পাওয়া যাবে নানা ডিজাইনের কিচেন ক্যাবিনেট। এছাড়া নাভানা, আকতার ফার্নিশার্স, অটবিতেও মিলবে পছন্দসই পণ্য। আর আপনি যদি চান নিজের মতো করে কিচেন ক্যাবিনেট তৈরি করে নিতে, তা কিন্তু মন্দ হয় না। রান্নাঘরের কিছু টুকিটাকি টিপস
রান্নাঘরের কিছু টুকিটাকি টিপস
  • • বাজার থেকে অনেকটা ক্যাপসিকাম এনেছেন? এক সপ্তাহ পরও যাতে তাজা থাকে তার জন্য অ্যালুমিনিয়াম ফয়েলে মুড়ে ফ্রিজে তুলে রাখুন।
    • ভুল করে রান্নায় অনেকটা লবণ দিয়ে ফেলেছেন। খোসা ছাড়ানো আলু ফেলে দিন। দেখবেন ঠিক আগের স্বাদ ফিরে এসেছে।
    • সবসময় প্লাস্টিকের বোতলে জেলি রাখুন। এতে আপনার চামচ ও বয়াম কোনোটাই আঠালো, চটচটে হবে না।
    • মাছ ফ্রিজে বেশি দিন রাখলে খেতে পুরনো লাগে। তাই ফ্রিজে রাখার আগে নুন, হলুদ মাখিয়ে রাখুন। বেশ কয়েক দিন পর খেলেও তাজা লাগবে।
  • • সবজি শুকিয়ে গেলে ফেলে দেবেন না। এক বালতি ঠাণ্ডা পানিতে কয়েক ফোঁটা পাতিলেবুর রস দিন। ঘণ্টাখানেক ভেজান। সবজি রান্নার জন্য তৈরি।
    • বাড়িতে ফ্রিজে না থাকলে বা খারাপ হলে এক বালতি ঠাণ্ডা পানির মধ্যে দুধের বোতল বা পানি রাখুন। আর এই পানিতে দিন এক টেবিল চামচ লবণ ও এক টেবিল চামচ কাপড় কাচার সোডা। অনেকক্ষণ ভালো থাকবে।
    • ছোট্ট লবণের পুঁটলি, বিস্কুটের কৌটাতে একই কাজ করবে।
    • বিস্কুটের কৌটাতে কয়েকটা ব্লটিং পেপার দিয়ে দিতে পারেন। নরম হবে না। চালে পোকা না লাগার জন্য কয়েকটা নিমপাতা দিতে পারেন।
    • আটা, ময়দা বা বেসনে পোকা না লাগার জন্য কয়েকটা মেথিপাতা দিয়ে রাখুন।
রান্নাঘরের প্রয়োজনীয় কয়েকটি টিপস
রান্নাঘরের প্রয়োজনীয় কয়েকটি টিপস:
দক্ষ গৃহিণীদেরও রান্নাঘর সামলাতে গিয়ে অনেক সময় হিমশিম খেতে হয়। একটু বুদ্ধি খাটিয়ে কিছু উপায় মেনে চললে মুক্ত থাকা যায় অনেক ঝামেলা থেকে। জেনে নিন তেমনই প্রয়োজনীয় কয়েকটি টিপস :
– খোসা ছাড়ানো আলু রেখে দিলে কালো হয়ে যায় অনেক সময়। এক্ষেত্রে খোসা ছাড়ানো আলু রান্নার আগ পর্যন্ত ঠান্ডা পানিতে ডুবিয়ে রাখুন। এটা ফ্রিজেও রাখা যায়। রান্নার আগে আলু টুকরো করে কেটে নেবেন।
– ডিম ভাঙতে গিয়ে জোরে চাপ পড়ে ডিমের খোসা ভেঙে গুঁড়া হয়ে যাওয়াটা বিচিত্র নয়। এ অবস্থায় আস্ত ডিমটা ফেলে না দিয়ে ভাঙা খোসার একটা বড়ো টুকরো হাতে নিন। এবার এই টুকরোটার সাহায্য নিয়ে খোসার ছোট ছোট ভাঙা অংশগুলো তুলে ফেলুন ডিমের গোলা থেকে।
– কলা/ আম কিনে এনে দেখলেন যে সেগুলো আধপাকা। এ অবস্থায় বড়োসড়ো কাগজের ঠোঙায় ফলগুলো মুড়ে রেখে দিন। তাড়াতাড়ি পেকে যাবে।
– জন্মদিনের কেক থেকে গেছে? ফ্রিজে রাখার আগে কেকটা যেখান থেকে কেটেছেন, সেই খোলা দিকটায় টুথপিক দিয়ে পাউরুটির স্লাইস আটকে দিন। এই পাউরুটিই কেকটাকে শুকনো হতে দেবে না।
– রান্নার পরে হাত থেকে আদা-রসুন বা মাছের গন্ধ যাচ্ছে না? লেবু বা বেকিং সোডা হাতের আঙুলে মাখিয়ে ঘষে ধুয়ে নিন। তাতেও গন্ধ থাকলে হাতটা একটা স্টেনলেস স্টিলের বাসনের গায়ে খানিকক্ষণ ঘষুন-– হাতের গন্ধ বাসনটি টেনে নেবে!
– ছুরির ধার কমে যাচ্ছে? কাঁটা-চামচ ইত্যাদি কাটলারির সঙ্গে ছুরি রাখার কারণেও তা হতে পারে। ছুরি সব সময় নির্দিষ্ট স্ট্যান্ডে রাখা উচিত, ধারালো দিকটা যেন নিচের দিকে থাকে।
– কৌটা বা জারের মুখ এমনভাবে আটকে গিয়েছে যে কিছুতেই খুলতে পারছেন না? রবার ব্যান্ড আটকে নিন ঢাকনাটিতে, তারপর আবার চেষ্টা করুন। এতেও না খুললে রবার ব্যান্ড আটকানো ঢাকনার উপর একটি শুকনো রুমাল জড়িয়ে চেষ্টা করতে পারেন, ঢাকনা খুলতে বাধ্য।
কাঠ না প্লাস্টিক, রান্নাঘরে কোন বোর্ড বেশি নিরাপদ
কাঠ না প্লাস্টিক, রান্নাঘরে কোন বোর্ড বেশি নিরাপদ?
রমণীদের আধুনিক রান্নাঘরে এখন বটির ব্যবহার অনেকটাই লোপ পেয়েছে। অল্প পরিসরে তৈরি এখনকার রান্নাঘরগুলোতে দাঁড়িয়ে ছুরি আর কাটিং বোর্ড বা চপিং বোর্ডে শাক-সবজি, তরকারি কাটতেই স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করেন বেশির ভাগ গৃহিনী। কিন্তু কোন ধরনের চপিং বোর্ড স্বাস্থ্যের পক্ষে নিরাপদ আর কোনটি ক্ষতিকর, তা জানেন কি? বাজারে দুই ধরনের চপিং বোর্ড কিনতে পাওয়া যায়। একটি প্লাস্টিকের আর অপরটি কাঠের তৈরি। এক্ষেত্রে অনেকেই মনে করেন, প্লাস্টিকের বোর্ড কাঠের বোর্ডের চেয়ে বেশি নিরাপদ, অনেক বেশি পরিচ্ছন্ন। কিন্তু বাস্তবে এ ধারণা সঠিক নয়।
একাধিক গবেষণায় দেখা গেছে, প্লাস্টিকের বোর্ডের তুলনায় কাঠের বোর্ড অনেক বেশি স্বাস্থ্যকর। প্রতিদিন ব্যবহারে প্লাস্টিকের বোর্ডে যত খাঁজ বা দাগ পড়ে যায়, সেগুলোর মধ্যে অনেক ব্যাকটেরিয়া বাসা বাঁধতে পারে। পানি-সাবান দিয়ে ভাল করে ধোয়ার পরও এর মধ্যে জীবাণু থেকে যেতে পারে। ফলে আপাত দৃষ্টিতে পরিষ্কার মনে হওয়া প্লাস্টিকের চপিং বোর্ড মোটেই স্বাস্থ্যের জন্য নিরাপদ নয়।
ইউনিভার্সিটি অব ক্যালিফোর্নিয়ার অধ্যাপক ডিন ওক্লিভার এ বিষয়ে গবেষণা করে দেখেন, প্লাস্টিকের চেয়ে কাঠের চপিং বোর্ডে স্যালমোনেলার (এক ধরনের ক্ষতিকর ব্যাকটেরিয়া যার প্রভাবে আন্ত্রিকের মতো পেটের রোগ হয়) পরিমাণ কম পাওয়া যায়। কাঠের চপিং বোর্ডে এ সব ব্যাকটেরিয়া বোর্ডের পৃষ্ঠ থেকে নিচের স্তরে চলে যায়। সেখানে স্যালমোনেলার মতো ক্ষতিকর ব্যাকটেরিয়া বংশবিস্তার করতে পারে না, ফলে অল্প সময়ের মধ্যে মারা যায়।
কিন্তু প্লাস্টিক বোর্ডে এ সব ব্যাকটেরিয়া বোর্ডের পৃষ্ঠে থাকা ছুরির দাগে বা ছুরির আঘাতে তৈরি হওয়া খাঁজে আটকে থাকে। বোর্ড পরিষ্কার করা হলেও তা সম্পূর্ণ জীবাণুমুক্ত করা যায় না। তাই নতুন প্লাস্টিকের বোর্ড যতই স্বাস্থ্যকর ও পরিষ্কার হোক না কেনো, পুরনো প্লাস্টিকের বোর্ড স্বাস্থ্যের জন্য বেশ ঝুঁকিপূর্ণ হতে পারে। যদিও এ বিষয়ে এখনও মতভেদ রয়েছে। তবে নিয়মিত পরিষ্কার রাখার পরও পুরনো হয়ে যাওয়া প্লাস্টিকের চপিং বোর্ড বদলে নতুন বোর্ড ব্যবহার করাই ভালো। এতে খাবারে ব্যাকটেরিয়ার সংক্রমণের আশঙ্কা কমে যায় অনেকটাই।
তাই বোর্ড যখন পুরনো হয়ে যায় এবং এতে অনেক খাঁজকাটা দাগ পড়ে যায়, তখন নতুন বোর্ড কেনাই উচিত। সম্ভব হলে এমন শক্ত কাঠের বোর্ড ব্যবহার করুন, যাতে প্লাস্টিকের মতো সহজে দাগ পড়ে না। এর ফলে স্বাস্থ্যঝুঁকি যেমন কম থাকে, তেমনি আপনার ছুরির ধারও অক্ষত থাকবে। কারণ, শক্ত কাঠের বোর্ড ব্যবহারে ছুরি সহজে ভোঁতা হবে না। আর একটা কথা। সম্ভব হলে মাংস এবং সবজি কাটার জন্য আলাদা আলাদা চপিং বোর্ড ব্যবহার করাটা সব চেয়ে নিরাপদ ও স্বাস্থ্যকর। এতে ক্রস কন্টামিনেশন (দূষণ) হবার ঝুঁকি থাকে না।
তথ্য এবং ছবি : গুগল

Leave a Reply

Your email address will not be published.

Main Menu