ঘর থেকে পোকামাকড় (মশা, তেলাপোকা, পিঁপড়া এবং ছারপোকা) তাড়ানোর কিছু সহজ উপায়​

ঘর থেকে পোকামাকড় (মশা, তেলাপোকা, পিঁপড়া এবং ছারপোকা) তাড়ানোর কিছু সহজ উপায়

Mosquito

মশা তাড়ানোর উপায়:

মশার অত্যাচারে অনেকেই অতিষ্ট। মশার কামড়ে যে শুধু যে চুলকাবে তাতো নয়, তার সাথে বয়ে আনতে পারে বিভিন্ন ধরনের রোগ। মানুষের জন্য এই কষ্টদায়ক প্রাণীটির কামড় থেকে বাঁচতে অনেকেই মশারি টানান আবার অনেকে কয়েল জ্বালান। তাই মশা তাড়াতে এই দুইটি পদ্ধতি ছাড়াও রয়েছে সহজ তিনটি উপায়।

১. নিমের তেল, কর্পুর এবং তেজপাতা নিন। সবার আগে নিমের তেলের সাথে কর্পুর মিশিয়ে একটি স্প্রে বোতলে ঢেলে নিন, এবার তেজপাতার উপর সেই মিশ্রিত তেল স্প্রে করুন। তারপর তেজপাতাটা পুড়িয়ে দিন। যদি বাড়িতে কোনও স্প্রে বোতল না থাকে তাহলে হাত দিয়ে তেজপাতার উপর তেল ভালো করে লাগিয়ে নিন। তেজপাতার ধোয়ায় মশা একমূহুর্তের মধ্যে ঘর ছেড়ে পালাবে এবং তেজপাতার ধোয়া ক্ষতিকরও না।

২. শোয়ার সময় অথবা লেখাপড়া করার সময় একটু দূরে নিমের তেল দিয়ে প্রদীপ জ্বালান। যদি মশার উপদ্রব খুব বেশি হয়, তাহলে সেই তেলে একটু কর্পুর মিশিয়ে নিন। এতে করে মশা আপনার ধারে কাছেও আসবে না। এতে করে লেখাপড়া বা ভালোকরে ঘুমোতে পারবেন।

৩. নাকিলের তেল, লবঙ্গের তেল, পিপারমেন্ট তেল এবং নীলগিরি তেল সমান মাত্রায় নিয়ে মিশাতে হবে। এই মিশ্রণটি একটা বোতলে ঢেলে নিন। রাতে শোয়ার আগে আপনি এই তেল গায়ে মেখে নিন, একটা মশাও আপনার ধারে কাছে আসবে না।

Cockroaches
ঘর থেকে তেলাপোকা দূর হচ্ছে না:
সব বাড়িতেই তেলাপোকার উপদ্রব থাকে কমবেশি। রান্নাঘর থেকে শুরু করে বসার ঘর সব জায়গায় ওদের ছুটাছুটি। বিরক্তকর এই পোকার অত্যাচারে অতিষ্ঠ গৃহকর্ত্রী। তেলাপোকা নানান ধরণের রোগও ছড়িয়ে থাকে। বাজারের কেনা তেলাপোকা মারার ওষুধ সাময়িক কাজ করলেও পার্মানেন্ট কোন সমাধান দিতে পারে না। তাই ঘরোয়া উপায়গুলো জেনে নিন –
(১) তেজপাতার গন্ধ তেলাপোকা সহ্য করতে পারে না। ফলে যেখানে তেজপাতা থাকে সেখানে তেলাপোকা থাকে না। তাই তেলাপোকার আনাগোনা যেখানে বেশি সেখানে তেজপাতা ছিঁড়ে ফেলে রাখুন। বাড়ি থেকে তেলাপোকা সদলবলে দূর হবে।
(২) পানি আর অ্যামোনিয়ার মিশ্রণ তেলাপোকা তাড়ানোয় অত্যন্ত উপযোগী। এক বালতি পানিতে ২ কাপ অ্যামোনিয়া গুলে নিন। এই পানি দিয়ে রান্নাঘর ধুয়ে নিন। অ্যামোনিয়ার গন্ধে তেলাপোকা পালাবে।
(৩) গায়ে মাখার সাবান ও পানি মিশিয়ে মিশ্রণ তৈরি করুন। ঘরের কোনায় কোনায় এই পানি স্প্রে করে দিন। ব্যস তেলাপোকা বধ।
(৪) ময়দা ও বোরিক অ্যাসিড মেখে একটা ডো তৈরি করে নিন। এর ছোট ছোট লেচি কেটে ঘরের বিভিন্ন জায়গায় ছড়িয়ে রাখুন। এই লেচিতে মুখ দিলেই মরবে তেলাপোকা।
(৫) গোলমরিচ, পেঁয়াজ, রসুন- এই তিন উপকরণ একসঙ্গে পেস্ট বানিয়ে নিন। এবার এক লিটার পানিতে এই মিশ্রণটি দিয়ে ভালো করে গুলে নিন। ঘরের আনাচে কানাচেতে এই পানি স্প্রে করলেই নিশ্চিহ্ন হবে তেলাপোকার বংশ।
(৬) একটি টিনের কৌটায় কাটা শশা ভরে মুখ খুলে রেখে দিন। তেলাপোকা চলে যাবে। তবে দিনের পর দিন রাখবেন না। তাতে মাছির উপদ্রব শুরু হবে।
(৭) ঘরের কোণে কাঁচের জারে অর্ধেক পানি ভরে রেখে দিন। তেলাপোকা খালি ভেবে এর ভিতরে ঢুকলেই পানিতে আটকা পড়বে। আর উড়তে পারবে না।

ant

খুব সহজে ঘর থেকে পিঁপড়া দূর করুন:

পিঁপড়া দূর করার নানারকম ওষুধ কিনতে পাওয়া যায় বাজারে। তবে এগুলোর বেশিরভাগেই ক্ষতিকর রাসায়নিক পদার্থ থাকায় তা পিঁপড়ার পাশাপাশি মানুষেরও, বিশেষ করে ছোট বাচ্চাদের শরীরের ক্ষতি করে। তাই ঘরের পিঁপড়া দূর করুন প্রাকৃতিক উপায়ে। চলুন জেনে নিই প্রাকৃতিক সেই উপায়গুলো –

বাড়ি পরিস্কার রাখুন :

ঘর-বাড়ি পিঁপড়া এবং অন্যান্য কীট-পতঙ্গের থেকে মুক্ত রাখতে হলে প্রথম প্রয়োজন প্রতিদিন ঘরের সব কোনা ঠিকমতো পরিষ্কার রাখা। পানিতে কীটনাশক লিকুইড মিশিয়ে প্রতিদিন দু-বার করে ঘর মুছুন। কোথাও নোংরা জমতে দেবেন না। খাবারের অবশিষ্টাংশ ডাস্টবিনে ফেলুন। ডায়নিং টেবিলে দীর্ঘক্ষণ ফেলে রাখবেন না। খাওয়ার পর বাসনপত্র সঙ্গে সঙ্গে ধুয়ে ফেলুন।

সাদা ভিনেগার :

সাদা ভিনেগার পিঁপড়া মারার জন্য খুব উপকারী। পানি এবং সাদা ভিনেগার সম পরিমাণে মিশিয়ে একটি স্প্রে বোতলে ভরে নিন। তারপর ঘরের বিভিন্ন কোনায় ভালো করে ছড়িয়ে দিন। পিঁপড়া দূরে থাকবে।

দারচিনি গুঁড়া: ঘরের যে সব জায়গায় বেশি পিঁপড়ার উত্পাাত, সেব জায়গায় ভালো করে দারচিনি গুঁড়া ছড়িয়ে দিন। এর গন্ধ পিঁপড়া সহ্য করতে পারে না।

লবণ: কয়েক টেবিল চামচ লবণ গরম পানিতে গুলে নিন। এই মিশ্রণ ঠান্ডা করে নিয়ে স্প্রে বোতলে ভরে পিঁপড়ার সম্ভাব্য সব জায়গায় স্প্রে করুন। পিঁপড়া কাছে ঘেসবে না।

চক : চকের গুঁড়া পানিতে গুলে বাড়ির দেওয়াল বা ঘরের বিভিন্ন কোণে ছড়িয়ে দিন। একই কাজ আপনি বেবি পাউডার দিয়েও করতে পারেন।

Insects
ছারপোকার বংশ এবার ধ্বংস হবেই:
ছারপোকা (bed bug) সিমিসিডে গোত্রের একটি ছোট্ট পতঙ্গ বিশেষ। এ পোকাটি বিছানা, মশারি, বালিশের এক প্রান্তে বাসা বাঁধলেও ট্রেন কিংবা বাসের আসনেও এদের দেখা মেলে। বিছানার পোকা হলেও এর অন্যতম পছন্দের আবাসস্থল হচ্ছে- ম্যাট্রেস, সোফা এবং অন্যান্য আসাবাবপত্র। পুরোপুরি নিশাচর না হলেও ছারপোকা সাধারণত রাতেই অধিক সক্রিয় থাকে এবং মানুষের অগোচরে রক্ত চুষে নেয়। ঘরে ছারপোকার আক্রমণ ঘটলে অশান্তির শেষ থাকে না। চলুন দেখে নেই এই জ্বালাতনকারী পোকাটিকে কিভাবে সহজেই ঘর থেকে তাড়ানো যায়-
(১) বিছানা সহ অন্যান্য জায়গা থেকে ছারপোকা তাড়াতে সারা ঘরে ভালো করে ভ্যাকুয়াম করুন। ভ্যাকুয়াম করার সময় খেয়াল রাখুন যাতে ঘরের মেঝেও বাদ না পড়ে। এতে করে আপনার ঘরে ছারপোকার আক্রমণ অনেকটাই কমে যাবে।
(২) ছারপোকা মোটামুটি ১১৩ ডিগ্রি তাপমাত্রাতে মারা যায়। ঘরে ছারপোকার আধিক্য বেশী হলে বিছানার চাদর, বালিশের কভার, কাঁথা ও ঘরের ছারপোকা আক্রান্ত জায়গাগুলোর কাপড় বেশী তাপে সিদ্ধ করে ধুয়ে ফেলুন। ছারপোকা এতে মারা যাবে।
(৩) আপনার ঘরের যে স্থানে ছারপোকার বাস সেখানে ল্যাভেন্ডার অয়েল স্প্রে করুন। দুই থেকে তিনদিন এভাবে স্প্রে করার ফলে ছারপোকা আপনার ঘর ছেড়ে পালাবে।
(৪) এক লিটার পানিতে ডিটারজেন্ট যেমন সার্ফ এক্সেল ঘন করে মিশিয়ে স্প্রে করুন। এ উপায়ে স্প্রে করার ফলে ছারপোকা সহজেই মারা যাবে।
(৫) আসবাবাপত্র ও লেপ তোশক পরিষ্কার রাখার সাথে সাথে নিয়মিত রোদে দিন। এতে করে ছারপোকার আক্রমণ কমে যাওয়ার সাথে সাথেই ছারপোকা থাকলে সেগুলো মারা যাবে।
(৬) ছারপোকা তাড়াতে অ্যালকোহল ব্যবহার করতে পারেন। ছারপোকা প্রবণ জায়গায় সামান্য অ্যালকোহল স্প্রে করে দিন দেখেবেন ছারপোকা মরে যাবে।
(৭) ছারপোকার হাত থেরে রেহাই পেতে আপনার বিছানা দেওয়াল থেকে দূরে স্থাপন করুন। শোয়ার আগে ও পরে বিছানা ভালো করে ঝেড়ে ফেলুন সাথে পরিষ্কার পরিছন্ন থাকুন। তথ্য এবং ছবি : গুগল

4 Comments

  1. Cras id nulla at metus congue auctor. Suspendisse auctor dictum orci quis interdum. Nullam et eleifend metus. Integer in est orci. Duis hendrerit ex metus, vel tempor sem aliquet nec. Donec ornare hend rerit bibendum.
    • Duis aute irure dolor in reprehenderit in voluptate velit esse cillum dolore eu fugiat nulla pariatur. Excepteur sint occaecat cupidatat non proident, sunt in culpa qui officia deserunt mollit anim id est laborum.
  2. Ut tellus ligula, interdum a interdum ut, egestas ut ipsum. Vivamus viverra consequat ipsum, nec auctor dolor eleifend sit amet. Nulla cursus fringilla metus a dictum

Leave a Reply

Your email address will not be published.

Main Menu